বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন

রংপুরে ধসে পড়া ব্রিজের হয়নি গতি, সড়কে যোগাযোগ বন্ধ দুর্ভোগে পড়েছে জনসাধারণ

রংপুরে ধসে পড়া ব্রিজের হয়নি গতি, সড়কে যোগাযোগ বন্ধ দুর্ভোগে পড়েছে জনসাধারণ

মোঃ বেলায়েত হোসেন বাবু, রংপুর : রংপুরের পীরগাছার আলাইকুমারী নদের ওপর নির্মিত ব্রিজটি ধসে পড়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে জনসাধারণ। বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খনন কাজ ও পানি ছেড়ে দেওয়ায় ব্রিজটি ধসে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গত সোমবার (২৯ মে) দুপুরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়নি। এখন প্রায় দুই কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করছেন ওই সড়ক ধরে চলাচল করা যাত্রীসাধারণ ও যানবাহনগুলো।এর আগে রোববার (২৮ মে) রাত ১০টার দিকে পীরগাছার ইটাকুমারী ইউনিয়নের মাহিগঞ্জ.পাওটানা সড়কের দামুর চাকলা বাজার সংলগ্ন ২৭ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি ধসে পড়ে।

ওই স্থানে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তাদের অভিযোগ বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীন কাজ ও গাফলতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।এ ব্যপারে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা তলবের কথা জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিকল্প উপায়ে যানবাহন চলাচলে উদ্যোগের চেষ্টা চলছে।প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নদের পানি একপাশে বেঁধে রেখে অন্যপাশে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ খনন কার্যক্রম চালাচ্ছিল। ভেকু ব্রিজের নিচ দিয়ে আনা নেওয়া করা ছাড়াও ব্রিজের পিলারের কাছে ভেকু দিয়ে খনন কাজ চালায় বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। রোববার বিকেলে ওই পানি ছেড়ে দেওয়া হলে হুমকির মুখে পড়ে ব্রিজটি। এর মধ্যেই রাত ৯টার দিকে ব্রিজের পশ্চিমাংশ ধসে নদীতে পড়ে যায়। ধসে পড়ার সময় ব্রিজের ওপরে থাকা পথচারীরা দৌড়ে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন। ব্রিজটি অনেক পুরোনো হওয়ায় পিলারগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর ও স্থানীয়রা জানান, মাহিগঞ্জ-পাওটানা সড়কের দামুর চাকলা বাজারের পশ্চিম পাশে আলাইকুমারী নদীর উপর ১৯৮২ সালে ২৭ মিটার দৈঘ্য একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ২০২১ সালে তিস্তা সোলার পাওয়ার প্লান্টের সরঞ্জামাদিবহন করা অসংখ্য ভারি ট্রাক ওই ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচলের কারণে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়াতে ব্রিজের নিচে থাকা পিলারের ইট সিমেন্ট বালু সব নষ্ট হয়ে গেছে। এর ওপর বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ পানি ছেড়ে দেওয়ায় স্রোতের কারণে ব্রিজের একাংশ ধসে গেছে।সম্প্রতি উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ওই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে একই স্থানে ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৬ মিটার দীর্ঘ একটি ব্রিজ নির্মাণের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এদিকে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই রোববার রাতে ব্রিজের উপর দিয়ে একটি নৈশ্য কোচ ও একটি ভারি ট্রাক যাওয়ার পর ব্রিজে ফাটল দেখা দেয়।

এর ৩০ মিনিট পর একাই ব্রিজটি ধসে পড়ে যায়।এদিকে ব্রিজ ধসে যাওয়ায় মাহিগঞ্জ-পাওটানা রুটে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। যানবাহন ও যাত্রীদের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা কলাগাছের ভেলা তৈরি করে কোনোমতে পারাপার করছে। শিক্ষার্থীরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে। ব্রিজের পূর্ব পাশের দামুরচাকলা বাজারেও মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। বিশেষ করে রংপুর-পীরগাছার যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়ায় ওই এলাকার বড় বড় হাটবাজারগুলোতে যেতে পারছেন না লোকজন। দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের দাবি জানান এলাকাবাসী। গত সোমবার দুপুরে পীরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবার রহমান, ইউএনও নাজমুল হক সুমন, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুল হক লিটন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ইটাকুমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার জানান, ব্রিজটি আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা ছিল।

তাই পুনরায় নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা আছে। এরমধ্যেই বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ছেড়ে দেওয়া পানির স্রোতে পিলারের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ধসের ঘটনাটি ঘটেছে। কীভাবে সড়কটি আবার চালু করা যায় সেটা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছি।উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাছের মোহাম্মদ মাহবুবার রহমান জানান, ব্রিজটার একটা স্লাব ধসে পড়ায় আমাদের এলাকার ১ থেকে দেড় লাখ মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। ব্রিজ এলাকায় বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ খাল খনন করছিল। তারা পানি ছেড়ে দেওয়ার পরপরই ব্রিজ ধসে পড়ে। এতে তাদের কোনো গাফিলতি আছে কিনা সেটা দেখার জন্য আমরা এসেছি। তাদের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে যানবাহন চলাচললের জন্য কি ব্যবস্থা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনায় বসেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হক প্রধান জানান, আলাইকুমারী খালের ব্রিজটি রোববার রাতে ধসে গেছে। এখানে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটা খাল খননের কার্যক্রম চলছিল। এ অবস্থায় খাল খননের কারণে ব্রিজটি ভাঙলো কিনা সেটি জানতে আমি সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছি। এছাড়াও দ্রুততম সময়ের মধ্যে অলটারনেটিভ ব্যবস্থা করে যাতায়াতে দুর্ভোগ লাঘবের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে উপজেলা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারি প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ব্রিজের নিচ থেকে মাটিকাটা হয়নি। পানির ঢলের কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |